FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

জীবন হচ্ছে ... এটা ‘’ দ্বৈরথ ‘’

জীবন হচ্ছে ... এটা ‘’ দ্বৈরথ ‘’

*

আমার প্রথম জীবনকে ভাগ করলে তা নিঃশেষে বিভাজ্য হবে, এই ব্যাপারে আমি যথেষ্ট নিশ্চিত। দ্বিতীয় জীবনে সবে প্রবেশ করে যখন প্রথম জীবনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করি তখন হুট করেই আমার দ্বৈরথ নিঃশ্চুপ হয়ে যায়। একজীবনে মানুষ কতকিছু করে, কতকিছু দেখে বা শোনে। সমস্ত ইন্দ্রীয় দিয়েও জীবনকে দেখার চেষ্টা করার পরও একজীবনে এমন অনেক কিছুই থেকে যায়, যার স্বাদ কোনকালেই আর আস্মাদন করার সুযোগ নেই। এই সহজবোধটা জাগ্রত হতেও অনেক সময় ব্যায় হয়ে যায়।

তবে এও ঠিক একজীবনে সবকিছু বুঝে গেলে বাকী জীবনে আর বোঝার কিছু থাকেনা, মানুষ তখন কিসে পরিণত হয় জানিনা। তবে এতটুকু জানি সব বোঝা হয়ে গেলে, সব জানা হয়ে গেলে জীবনের কোন উদ্দেশ্য থাকেনা। জীবনের রসটা বোধহয় বোঝার থেকে না বোঝাতেই বেশী থাকে।

যখন আমরা কিছুই বুঝতে চাইনা, সেই সময়টার একটা আলাদা আনন্দ আছে, সবকিছুর পেছনে কিসব দারুণ দারুণ যুক্তি থাকে। সপ্তম শ্রেণীতে আমাদের কমন একটা প্রশ্ন ছিল "স্যার, নাইন-টেনের ভাইয়ারা কেন স্কুল পালায়? আপুরা কেন পালায় না?"

প্রতিবারের প্রশ্নে স্যারের একই জবাব "পিপীলিকার পাখনা না গজালে পিপীলিকা উড়তে পারেনা"। এই প্রশ্নের উত্তরে কেউ বোধহয় আমরা সন্তুষ্ট হতাম না, যদি হতাম তাহলে প্রতিবার একই প্রশ্ন করতাম না। এই যে না বুঝে বা বোঝার চেষ্টা না করে একই প্রশ্ন বারংবার করার মাঝে এমন এক স্বর্গীয় আনন্দ থাকে যেটা উপভোগ করার সময়ে যতটা উপলব্ধি করা যায় তার থেকেও বেশী উপলব্ধি করা যায় স্মৃতিচারণের সময়ে।

ঠিক যখন আমাদের যখন ডানা গজালো, প্রিয় সেই শিক্ষক চিরবিদায় নিল; তারপরেই সেই উপলব্ধিটা আমাদের ভেতরে জোর পেল। প্রতিবার স্কুল পালানোর সময় স্যারের সেই সাহিত্যিক উত্তর ১ এর ঘরের নামতার মত সহজ হতে শুরু করলো। পিপীলিকার পাখা গজানোর সাথে স্কুল পালানোর সম্পর্ক বুঝতে আমাদের কেটে গেল দুই বছর।

পাখা গজানোর সাথে সাথেই আমাদের অনেক বন্ধুদের মনে তখন বসন্তের রঙ লাগা শুরু হয়েছে, আমার বসন্ত তখনো অনেক দূরে। যখন আমার বন্ধুদের মনে বসন্তের হাওয়া দোল খাচ্ছে তখন আমার মনের অবস্থা গ্রীষ্মের কাঠফাঁটা রোদে শুকিয়ে যাওয়া ধানি জমির মত যার মাথার উপর তপ্ত সূর্য্য কিরণ দিচ্ছে। ঠিক এমনই এক দুপুরের সমস্ত নিরবতা ভেঙে দিয়ে আমার ভেতরেও বসন্তের হাওয়ার মত দোল খেয়েছিল একজোড়া নুপুর। সেই প্রথমবার কেন জানি বুকের ভেতর ধক করে উঠলো, গ্রীষ্মের রোদজ্বলা আকাশে হুট করে মেঘ জমে বজ্রপাত দিয়ে বৃষ্টি শুরুর আগে যেমন হালকা উষ্ণ-শীতল বাতাস বয়ে যায় ঠিক তেমন এক অনুভুতি। এই অনুভুতি ভাষা দিয়ে বা ছবি এঁকে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তীব্র গরমের মানুষ যেমন ঈশান কোণে মেঘের অনুসন্ধান করে, চাতক যেমন বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকে ঠিক আমিও সমস্ত ঈন্দ্রীয় শক্তি এক করে বসে ছিলাম সেই নুপুরের আওয়াজের উৎসের দিকে। চাতকের অপেক্ষা একসময় শেষ হয়, বৃষ্টি আসে আর চাতক স্বস্তিতে আনন্দিত হয়। বুকের ভেতরে ইষৎ লাফানো হৃদপিন্ডটার গতি বেড়ে যাচ্ছে ক্রমে, শরীরের সমস্ত শক্তি কেন্দ্রীভূত হচ্ছে ঘোলা হয়ে যাচ্ছে সবকিছু শুধু বসন্তের একটামাত্র ফুল ছাড়া।

পৃথিবীতে যতগুলো সুন্দর অনুভূতি আছে তার ভেতরে সম্ভবত সবচেয়ে নির্মল অনুভূতি 'প্রথম প্রেমের অনুভুতি', মানুষ প্রেমে পড়লে কারণে অকারণে অঘোষিত প্রেমিকার সলজ্জ হাসিমাখা মুখটা ভেসে ওঠে। সেজন্যই হয়ত হুমায়ুন আজাদ লিখেছিলেন-

’’ আমাকে ভালবাসার পর আর কিছুই আগের মত থাকবে না তোমার।
রাস্তায় নেমেই দেখবে বিপরীত দিক থেকে আসা প্রতিটি রিকশায়
ছুটে আসছি আমি আর তোমাকে পেরিয়ে চ’লে যাচ্ছি
এদিকে-সেদিকে। তখন তোমার রক্ত আর কালো চশমায় এত অন্ধকার
যেনো তুমি ওই চোখে কোন কিছুই দ্যাখো নি। ’’


ছবিঃ উইলাম হেনরেৎস
::Source:: https://dbairatha.quora.com/?__fie__=1&__nsrc__=4&email_track_id=6b52f1f9381c48afb4c8c30916aa3045

*




0 Comments 112 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2021