FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

আজকের তারাবীহ | পর্ব-১৮

আজকের তারাবীহ | পর্ব-১৮

*

আজকের তারাবীহ | পর্ব-১৮

পবিত্র মাহে রামাদানের প্রতিদিনের খতম তারাবীহ সালাতে তেলাওয়াতকৃত আয়াত সমূহের সংক্ষিপ্ত অনুবাদ ও আলোচনা নিয়ে এই আয়োজন।

#আজকের_তারাবীহ
#রামাদান_তারাবীহ_১৮
সূরা আনকাবুত, আয়াত ৪৫ থেকে ৬৯
সালাত অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।
আহলে কিতাবদের সাথে উত্তম পদ্ধতিতে বিতর্ক করতে বলা হয়, তবে তাদের মাঝে যারা সীমালঙ্ঘন করে তাদেরকেও সমুচিত জবাব দিতে হবে।
রাসূল (সাঃ) আগে কখনো কিতাব পড়েনওনি, লেখেনওনি। অথচ আল্লাহ তাঁর মুখ দিয়েই কুরআন পড়াচ্ছেন। এটিই মুজিযা হিসেবে যথেষ্ট যা জ্ঞানীরা ঠিকই বুঝতে পেরে ঈমান আনছে। কাফিররা যে আযাব নিয়ে আসতে বলে, তার জন্য সময় নির্ধারিত করা না থাকলে তা চলেই আসতো।
নিপীড়িত মুমিন বান্দাদেরকে হিজরতের উৎসাহ দেওয়া হয়। আল্লাহর জমিন প্রশস্ত। সকল পশুপাখিকেই তিনি রিযক দিয়ে থাকেন। মৃত্যু তো একদিন না একদিন হবেই।
মুশরিকরা সৃষ্টিকর্তা, বৃষ্টিদাতা হিসেবে আল্লাহকেই মানে, কিন্তু বিধান মানার ক্ষেত্রে শির্ক করে। বিপদের মুহূর্তে এমনভাবে আল্লাহকে ডাকে যেন একমাত্র তাঁর উপরই ঈমান রাখে। আল্লাহ উদ্ধার করার পর ঠিকই শির্ক করে।
বায়তুল্লাহর অস্তিত্বের কারণেই মক্কায় কোনো শত্রুদল আক্রমণ করতো না। অথচ মুশরিকরা আল্লাহর শোকরগুজার না হয়ে মূর্তিপূজা করে।
যারা আল্লাহর দিকে প্রচেষ্টা চালায়, আল্লাহ অবশ্যই তাদের হিদায়াত দিবেন।
সূরা রূম, আয়াত ১ থেকে ৬০
তৎকালীন বিশ্বের দুই সুপারপাওয়ার- খ্রিষ্টান অধ্যুুষিত রোমান সাম্রাজ্য এবং অগ্নিপূজক অধ্যুষিত ইরান পরস্পরের সাথে সংঘর্ষে লেগে থাকতো। ইরানের মুহুর্মুহু আক্রমণে রোম সাম্রাজ্য পর্যুদস্ত হয়ে যায়। মক্কার মুশরিকরা খোঁটা দিতো যে তারাও মুসলিমদেরকে সেভাবে পর্যুদস্ত করবে। আল্লাহ সূরা রূমে ভবিষৎবাণী করেন যে কয়েক বছর পর রোমানরাই বিজয় লাভ করবে, সেই সাথে মুমিনরাও। আয়াত নাযিলের সাত বছর পর রোমানদের হাতে ইরানী সাম্রাজ্য রোমানদের পাল্টা আক্রমণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আর মুমিনরা বদরে জয়লাভ করে। আপাত অসম্ভব দুটি ভবিষৎবাণী বাস্তবায়িত হয়।
মুশরিকদের সতর্ক করা হয় যে তাদের পূর্বে তাদের চেয়েও সমৃদ্ধ অনেক জাতি আল্লাহর নাফরমানী করে ধ্বংস হয়ে গেছে। আখিরাতে মুশরিকরা নিজেদের উপাস্যদের অস্বীকার করবে। জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের পরস্পর বিপরীত দৃশ্যাবলী বর্ণিত হয়েছে।
সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর তাসবীহ পাঠে লিপ্ত থাকার আদেশ করা হয়।
সৃষ্টিজগতে আল্লাহর নিয়ামতরাজির বর্ণনা করে চিন্তার খোরাক দেওয়া হয়। মানবসৃষ্টি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, আসমান-জমিন, ভাষা-বর্ণের বৈচিত্র্য, রাতদিনের আবর্তন, বিজলী, বৃষ্টি, প্রাণশীল থেকে প্রাণহীন ও প্রাণহীন থেকে প্রাণশীল বস্তু বের করা।
মানুষ নিজেদের দাসদাসীদেরকেই অর্থ-সম্পদ দিয়ে নিজেদের সমান করে দেয় না। অথচ আল্লাহর বান্দাদের ঠিকই আল্লাহর সাথে শরীক করে।
মানুষের মাঝে অন্তর্নিহিতভাবে সত্য বোঝার যে ফিতরাত আল্লাহ দিয়েছেন, তার উপর অবিচল থাকতে বলা হয়। মুশরিকরা বিভিন্ন মিথ্যা ধর্ম তৈরি করে নিজ নিজ ধর্মমত নিয়ে উৎফুল্ল হয়ে আছে।
মানুষ বিপদে পড়ে এক আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহ তাদের উদ্ধার করলে আবার শির্কে লিপ্ত হয়। আল্লাহর দেওয়া নিয়ামাত ভোগ করে উৎফুল্ল থাকে, অথচ নিজেদের কৃতকর্মের ফলে বিপদ আসলে আবার হতাশ হয়ে যায়। আল্লাহ এসব বিপদ এজন্য দেন যেন মানুষ তওবা করে নেয়। আত্মীয়, মুসাফির ও অভাবগ্রস্তের হক আদায় করার হুকুম দেওয়া হয়। সুদের অপকারিতা ও যাকাতের উপকারিতা বর্ণিত হয়।
বায়ুপ্রবাহ শুরু হওয়া থেকে শুরু করে বৃষ্টি হয়ে মৃত জমিন পুনরায় সজীব হয়ে ওঠা পর্যন্ত প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়ে আখিরাতের পুনরুত্থানের ব্যাপারে চিন্তা করতে বলা হয়।
আল্লাহর আয়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া লোকদের মৃত, বধির ও অন্ধের সাথে তুলনা করা হয়।
কিয়ামাতের আকস্মিকতায় কাফিররা উদ্ভ্রান্ত হয়ে ভাববে তারা দুনিয়ায় বা বারযাখে খুব অল্প সময় ছিলো। মুমিনরা জানবে যে আল্লাহর প্রতিশ্রুত সময় পর্যন্তই তারা সেখানে ছিলো। এসকল কাফির দুনিয়ার জীবনে স্পষ্ট প্রমাণ দেখেও ঈমান আনে না। যারা জ্ঞান বুদ্ধি কাজে লাগায় না, এভাবে আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেন।
সূরা লুক্বমান, আয়াত ১ থেকে ৩৪
কুরআনের মনোহর বর্ণনাভঙ্গি থেকে মানুষের মন ঘোরাতে কিছু কাফির দেশবিদেশের গল্প-উপকথা সংগ্রহ করে এনে সেসব প্রচার করতো। সূরা লুক্বমানের শুরুতে এ কাজকে তিরস্কার করা হয় ও শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এমন এক সম্মানিত মনীষী ছিলেন লুক্বমান হাকিম। মুশরিকরা নিজেরাও শির্ক করে, সন্তানদেরও শির্ক করতে বাধ্য করে। এর বিপরীতে লুক্বমান কেমন শোকরগুজার ছিলেন এবং তাঁর সন্তানকে কী উপদেশ দিয়েছেন তা তুলে ধরা হয়। পিতামাতা শির্কের আদেশ দিলে কেমন আচরণ করতে হবে তার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
লুক্বমান তাঁর ছেলেকে শেখান- শির্ক সবচেয়ে বড় অপরাধ, আল্লাহ ছোটবড় সকল কাজের হিসাব নিবেন, সালাত কায়েম করা, নেককাজের আদেশ ও বদকাজের নিষেধ, বিপদে সবর করা, অহংকার না করা, চলাফেরা ও কথাবার্তায় মধ্যমপন্থা অবলম্বন।
সৃষ্টিজগতের সবকিছুকে আল্লাহই মানুষের খেদমতে নিযুক্ত করেছেন, অথচ মানুষ শির্ক করে। এমনকি সৃষ্টিকর্তা ও বিপদে উদ্ধারকারী হিসেবে আল্লাহকে মানার পরও। একজন মানুষকে সৃষ্টি করা যেমন, সকল মানুষকে পুনর্জীবিত করাও আল্লাহর কাছে তেমন। তিনি কোনো ক্লান্তি বোধ করা থেকে মুক্ত। মানুষ জানে না আগামীকাল কী অর্জন করবে, কোথায় মারা যাবে। আল্লাহ এর চেয়ে গুপ্ত বিষয়ও জানেন।
সূরা সিজদাহ, আয়াত ১ থেকে ৩০
সূরা সাজদাহর শুরুতে তাদের দাবিকে রদ করা হয়েছে, যারা বলে কুরআন রাসূল (সাঃ) এর নিজের রচনা।
সৃষ্টিজগতের উপর আল্লাহর ক্ষমতা বর্ণিত হয়েছে। ছয় সময়কালে আসমান জমিন সৃষ্টি, আরশে সমাসীন হওয়া, যাবতীয় সৃষ্টির দেখভাল, মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি, তুচ্ছ পানি হতে বংশধারা সৃষ্টি, রুহ প্রদান, শ্রবণ-দর্শন-চিন্তাশক্তি প্রদান - মানুষ এসবের কমই শুকরিয়া আদায় করে থাকে।
আখিরাত অস্বীকারকারীরা পুনরুত্থান দিবসে দুনিয়ায় ফেরত আসতে চাইবে, যাতে ভালো কাজ করতে পারে। কিন্তু তারা যেভাবে দুনিয়ায় আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিলো, সেভাবে আল্লাহ তাদের অবজ্ঞা করে স্থায়ী শাস্তি দেবেন।
ঈমানদাররা আল্লাহর কালাম শুনলে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে, নিরহংকারী, ভয় ও আশা সহ রাতের বেলা সালাত পড়ে, আল্লাহর দেওয়া সম্পদ থেকে দান করে। আখিরাতে মুমিন ও কাফিরের পরিণতি স্বভাবতই ভিন্ন রকম হবে।
আখিরাতের বড় আযাবের আগে দুনিয়ার ছোট বিপদ দিয়ে আল্লাহ সতর্ক করেন। মূসা (আঃ) এর কওমের ঈমানদারগণ কীভাবে জমিনে নেতৃত্ব লাভ করেন, তা স্মরণ করানো হয়। আর কাফির জাতিগুলো কীভাবে ধ্বংস হয়েছে, তা তো চোখের সামনে বিদ্যমান। এখন কাফিররা বলছে আযাব নিয়ে আসতে, কিন্তু যেদিন তা সত্যিই চলে আসবে সেদিন পালানোর কোনো পথ পাবে না। অতএব, তারাও অপেক্ষা করছে, মুমিনরাও অপেক্ষা করুক।
সূরা আহযাব, আয়াত ১ থেকে ৩০
সূরা আহযাবের শুরুতে জাহিলি যুগের একটি তালাক পদ্ধতি 'যিহার' এবং পালকপুত্রকে রক্তসম্পর্কের পুত্রের মতো গণ্য করার জাহিলি প্রথাদ্বয় রদ করা হয়। এছাড়া, রাসূল (সাঃ) এর প্রতি উম্মাহর ভালোবাসা ও তাঁর স্ত্রীগণ উম্মতের মা এ কথা ঠিক। কিন্তু সম্পদের উত্তরাধিকারে রক্তসম্পর্কীয়দের অগ্রাধিকারের বিধান আলোচিত হয়।
আহযাব অর্থ বাহিনীসমূহ। বদর ও উহুদে পরাজয়ের পর কাফিররা এক বিশাল যৌথ বাহিনী গঠন করে মদীনার দিকে অগ্রসর হয়। সালমান ফারসির (রাঃ) এর পরামর্শ অনুযায়ী মুসলিমরা পরিখা (খন্দক) খনন করে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধটি ছিলো অত্যন্ত কঠিন। মদীনার ভেতরে-বাইরে ছিলো শত্রুতে ভরা। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে মনে সন্দেহ চলে আসার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছিলো। আল্লাহ এসময় মুমিনদের কীভাবে গায়েবি সাহায্য করেন, তা স্মরণ করানো হয়।
মুনাফিকরা তাদের ঘরবাড়ি অরক্ষিত থাকার দোহাই দিয়ে যুদ্ধ থেকে সরে যেতে চাইছিলো। আল্লাহ জানিয়ে দেন যে, শত্রুরা এসে যদি তাদের বিদ্রোহ করার লোভ দেখাতো, ঠিকই তারা ঘর ছেড়ে এসে বিদ্রোহে লিপ্ত হতো। এরা নিজেরা তো যুদ্ধের নাম শুনলে ভয়ে মূর্ছা যায় ও অন্যদেরও বাধা দেয়, কিন্তু যুদ্ধলব্ধ গনিমত বণ্টনের সময় ঠিকই নিজের হিস্যা চায়। কাফিরদের প্রকাশ্য পরাজয় দেখেও তারা ভয়ে ভয়ে থাকে কখন আবার আক্রমণ হয়, কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেওয়া যায়।
বিরাট শত্রুদল থেকে মুমিনরা বিচলিত হননি, বরং তারা বুঝতে পেরেছিলেন এটাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাঃ) ওয়াদা। শাহাদাত বরণ করার যে ওয়াদা তাঁরা আল্লাহকে দিয়েছিলেন, কেউ তা পূর্ণ করে এবারই শহীদ হয়েছেন। আর কেউ অপেক্ষায় আছেন পরবর্তী কোনো যুদ্ধে শহীদ হওয়ার জন্য।
ইহুদী গোত্র বনু কুরায়যা সন্ধি করেছিলো মুসলিমদের শত্রুদের সাহায্য করবে না বলে। তাদের বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তিস্বরূপ দীর্ঘদিন তাদের দূর্গ অবরোধ করে আত্মসমর্পণ করানো হয়। তাদের পুরুষদের হত্যা করে নারী-শিশু ও সম্পদ গনিমত হিসেবে বণ্টিত হয়। ভবিষ্যতে খাইবার গিরিপথ বিজয়ও সহজ হয়ে যায়।
বিপুল গনিমত লাভের পর নবীপত্নীগণের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুন্না) অন্তরে একটু সচ্ছল জীবনের বৈধ বাসনা জাগে। কিন্তু তাঁদের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে তাঁদেরকে এরকম দুনিয়াবি কামনা না করতে বলা হয় এবং আখিরাতের প্রতিদানের কথা স্মরণ করানো হয়।


কার্টেসি : হুজুর হয়ে ফেসবুক পেজ

*




0 Comments 157 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2024