FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

আজকের তারাবীহ | পর্ব-১৯

আজকের তারাবীহ | পর্ব-১৯

*

আজকের তারাবীহ | পর্ব-১৯

পবিত্র মাহে রামাদানের প্রতিদিনের খতম তারাবীহ সালাতে তেলাওয়াতকৃত আয়াত সমূহের সংক্ষিপ্ত অনুবাদ ও আলোচনা নিয়ে এই আয়োজন।
#আজকের_তারাবীহ
#রামাদান_তারাবীহ_১৯

সূরা আহযাব, আয়াত ৩১ থেকে ৭৩

নবীপত্নীগণের বিশেষ মর্যাদার কারণে তাঁদের জন্য মন্দ কাজের দ্বিগুণ শাস্তি ও নেক কাজের দ্বিগুণ প্রতিদানের কথা বলা হয়।
পর্দার কিছু বিধিবিধান এবং জাহিলি যুগের সাজসজ্জা নিষিদ্ধ করে কিছু বিধান বর্ণিত হয়।
মুসলিম, মুমিন, ইবাদতগুজার, সত্যবাদী, ধৈর্যশীল, বিনীত, দানশীল, রোজাদার, লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী, আল্লাহর যিকিরকারী নারী-পুরুষ উভয়ের পুরষ্কার বর্ণিত হয়।
বংশীয় ও আর্থিক বৈষম্য রোধে রাসূল (সাঃ) কতিপয় সাহাবার মাঝে বিবাহ দেন, যেখানে উচ্চতর পরিবারটি প্রথমদিকে রাজি ছিলো না। আল্লাহ আয়াত নাযিল করে এসকল সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আদেশ দেন।
রাসূলকে (সাঃ) আগেই ওয়াহীর মাধ্যমে জানানো হয়েছিলো যে রাসূলের পোষ্যপুত্র যায়েদ (রাঃ) ও ফুফাতো বোন যায়নাব (রাঃ) এর মাঝে বনিবনা হবে না, পরবর্তী সময়ে রাসূলের (সাঃ) সাথেই তাঁর বিবাহ হবে। কিন্তু রাসূল (সাঃ) সংকোচের কারণে তা প্রকাশ না করে সে দুজনকে সম্পর্ক ঠিকঠাক করার পরামর্শ দিতেন। আল্লাহ আয়াত নাযিল করে এমনটা করতে নিষেধ করেন যেখানে আল্লাহর ভয়ের চেয়ে লোকলজ্জা প্রাধান্য পায়। তাই যায়দ (রাঃ) যায়নাব (রাঃ)-কে তালাক দিলে রাসূলের (সাঃ) সাথেই যায়নাবের বিবাহ হয়। পোষ্যপুত্রকে আপন পুত্রের মতো ভাবার যে জাহিলি প্রথা চলে আসছিলো, সেটির এভাবে মূলোৎপাটন হয়।
রাসূলকে (সাঃ) পাঠানো হয়েছে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী হিসেবে আল্লাহর নির্দেশে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী আলোকিত প্রদীপরূপে।
তালাকের কিছু বিধান বর্ণিত হয়।
বিবাহের ক্ষেত্রে শুধু রাসূলের (সাঃ) জন্যই বিশেষভাবে প্রযোজ্য কিছু নিয়ম বর্ণিত হয়।
যায়নাব (রাঃ)-কে বিবাহ করার ওয়ালিমা অনুষ্ঠানে কিছু অতিথি আগেভাগে এসে বসে ছিলেন, কেউ কেউ খাওয়াদাওয়া শেষেও অনেকক্ষণ থেকে গল্পসল্প করছিলেন। রাসূল (সাঃ) এর মূল্যবান মুহূর্তগুলো নষ্ট হলেও তিনি স্বভাবসুলভ কোমলতার কারণে বলতে পারছিলেন না। আল্লাহ আয়াত নাযিল করে অতিথির সামাজিক আদবকেতার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিধান জানিয়ে দেন।
রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর দরুদ পাঠের হুকুম, আল্লাহর রাসূল ও মুমিন নরনারীদের অযথা কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে সাবধানবাণী বলা হয়েছে।
বিশেষভাবে নবীপত্নী এবং সাধারণভাবে সকল মুমিনা নারীর পর্দার কিছু বিধান বর্ণিত হয়েছে।
মুনাফিকরা মুমিন নারীদের ব্যাপারে গুজব ছড়াতো ও উত্যক্ত করতো। তাদের সাবধান করা হয় যে এখন তো তারা মুসলিম সমাজে নিরাপদেই আছে। কিন্তু এরকম কাজ থেকে বিরত না হলে তাদের পরিচয় প্রকাশ করে দিয়ে তাদের সাথেও কাফিরদের মতোই আচরণ করা শুরু হবে। বনী ইসরাইলের কিছু লোক মূসা (আঃ) এর ব্যাপারে মিথ্যা রটনা করে তাঁকে কষ্ট দিতো। তাদের মতো হতে নিষেধ করা হয়।
কাফিররা কিয়ামাতের দিন তাদের নেতাদের গালমন্দ করবে এবং তাদের জন্য দ্বিগুণ আযাবের দুআ করবে।
কুরআনের আমানত আকাশমণ্ডল, পৃথিবী ও পাহাড়ের কাছে পেশ করা হয়েছিলো। তারা তা বহন করতে অস্বীকার করে। কিন্তু মানুষ তা গ্রহণ করে নেয়। এই আমানতের খিয়ানতকারী মুনাফিক ও মুশরিক নারীপুরুষদেরকে আল্লাহ শাস্তি দেবেন, আর মুমিন নারীপুরুষদের রহমতের দৃষ্টি দেবেন।

সূরা সাবা, আয়াত ১ থেকে ৫৪

আখিরাতের পুনরুত্থানের যৌক্তিকতা, সম্ভাব্যতা ও বাস্তবতাকে অস্বীকারকারীদের বিভিন্ন কথার জবাব দেওয়া হয়েছে সূরা সাবা'র শুরুতে। তারা আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতাকে মানবীয় মাপকাঠি দিয়ে বিচার করে বলেই এমন ভ্রান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।
রাজ্যক্ষমতা পেয়ে দুই রকমের আচরণকারী দুটি পক্ষের বর্ণনা দেওয়া হয়। একদিকে দাউদ ও সুলাইমান (আঃ), অন্যদিকে সাবা রাজ্য। দাউদকে (আঃ) যেসব মুজিযা প্রদান করা হয় তা হলো সুন্দর কণ্ঠ যার সাথে পাহাড় ও পাখিরাও তাসবীহ পড়তো, লোহাকে ইচ্ছামতো বাঁকিয়ে মাপে মাপে বর্ম ও কড়া তৈরি। আর সুলাইমান (আঃ) এর জন্য বাতাসকে আজ্ঞাধীন করে দেওয়া হয় যাতে তিনি সহজে একমাসের পথ অতিক্রম করতেন। জিনেরা তাঁর আজ্ঞাধীন হয়ে কাজ করতো এবং বড় বড় ইমারত, পাত্র ইত্যাদি তৈরি করে দিতো। এ উভয় নবী বিশুদ্ধ তাওহীদপন্থী ছিলেন।
আল্লাহ সাবা রাজ্যকেও ভৌগলিক সুবিধা এবং প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর করেছিলেন। কিন্তু তারা আল্লাহর অকৃতজ্ঞতা করে। ফলে তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ নিকৃষ্টতর বিকল্প দিয়ে পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং কালক্রমে তাদের রাজ্য ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এভাবে মুমিনদের একটি দল ছাড়া বাকি মানবজাতিকে ইবলীস নিজের অনুসারী হিসেবে পায়।
মুশরিকদের বিভিন্ন রকম বিশ্বাসকে খণ্ডন করা হয়। কেউ সরাসরি প্রতিমাকে ইলাহ মনে করতো, কেউ এসব দেবদেবীকে আল্লাহর সাথে শরীক মনে করতো, আর কেউ সরাসরি শরীক না করলেও এদেরকে আল্লাহর কাছে সুপারিশকারী ভাবতো।
আখিরাতে কাফিরদের নেতা ও অনুসারীরা পরস্পরকে দোষারোপ করতে থাকবে, কিন্তু ঠিকই বুঝবে যে তারা সকলেই নিজ নিজ জায়গায় দোষী। যুগে যুগে বিত্তশালী লোকেরা নবীদের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছে। পার্থিব সম্পদকে তারা হকপন্থী হওয়ার মানদণ্ড ভেবে ভুল করেছে। সম্পদ ও সন্তান নয়, বরং ঈমান ও আমল হলো হকের মানদণ্ড। মক্কার মুশরিকরা যে সম্পদের বড়াই করছে, তাদের আগে তাদের চেয়েও বিত্তবান অনেক কওম আল্লাহর নাফরমানি করে ধ্বংস হয়েছে।
যেসব মুশরিক ফেরেশতাদের ইবাদাত করতো, আখিরাতে ফেরেশতাগণ তাদের এসকে কাজকর্ম ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিবেন। প্রকৃতপক্ষে এরকম শির্ক করে তারা আসলে শয়তানদেরই উপাসনা করতো।
রাসূলকে (সাঃ) পাগল, বিকারগ্রস্ত ইত্যাদি বলে তারা যে অপবাদ দিতো, সেগুলো সম্পর্কে তাদেরকেই আবার ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করতে বলা হয়। নিজেরাই নিজেদের অপবাদের অসারতা বুঝতে পারবে। রাসূল (সাঃ) তো এ কাজের বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিকও চান না। আর আখিরাতে কাফিররা বলবে, এখন আমরা ঈমান আনলাম। কিন্তু ঈমানন আনার প্রকৃত জায়গা দুনিয়া থেকে এত দূরে এসে এই ঘোষণা কোনো কাজে আসবে না।

সূরা ফাত্বির, আয়াত ১ থেকে ৪৫

সূরা ফাত্বিরের শুরুতে আল্লাহর ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। তিনি ইচ্ছামতো সৃষ্টিকারী, রহমত দাতা, রহমত রুদ্ধকারী, নিয়ামত দাতা, রিযকদাতা। এ ব্যাপারে যেন আমরা শয়তানের ধোঁকাবাজির শিকার না হই। সে আমাদের শত্রু, তাকে শত্রু বলেই গণ্য করতে হবে।
কাফিরদের ঈমান আনতে না দেখে রাসূল (সাঃ) যেন অতিরিক্ত মনস্তাপে না ভোগেন, সে হুকুম করা হয়। তারা তো এ কাজের দ্বারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বৃষ্টির মাধ্যমে নির্জীব ভূমিকে সজীব করার উপমা দিয়ে আখিরাতের পুনরুত্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ঈমান ও নেক আমলের মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা বাড়ে।
মানুষের সৃষ্টি, জন্ম, বৃদ্ধি, মিঠা ও লোনা পানিতে বিস্তৃত খাদ্য ও সম্পদ, রাতদিন, চন্দ্রসূর্যের আবর্তন- সবই এক আল্লাহর দান। মিথ্যা উপাস্যরা তো তাদের উপাসকদেরকেই অস্বীকার করে।
বান্দার প্রতি আল্লাহর অমুখাপেক্ষিতা ও আল্লাহর প্রতি বান্দার মুখাপেক্ষিতা বর্ণনা করা হয়।
কিয়ামাতের দিন কেউ কারো আমলের বোঝা বহন করবে না।
যারা তাওহীদের দাওয়াত গ্রহণ করে ও যারা করে না, তাদের পার্থক্য যেন অন্ধ-চক্ষুষ্মান, অন্ধকার-আলো, ছায়া-রোদ, মৃত-জীবিতের মতো।
আল্লাহ কর্তৃক বৃষ্টিবর্ষণ, সমতল ও পাহাড়ে রঙবেরঙয়ের ফল সৃষ্টি, মানুষ ও পশুপাখিতে অনুরূপ সৃষ্টিবৈচিত্র্য- এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে বলা হয়।
আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত, সালাত কায়েম, আল্লাহ প্রদত্ত রিযক থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে সৎকাজে ব্যয়কারীদের সুসংবাদ দেওয়া হয়। মুসলিমদের কেউ গুনাহগার, কেউ মধ্যমপন্থী আর কেউ সৎকাজে অগ্রগামী। এরা সকলে যথাযথ সময়ে জান্নাতে প্রবেশ করে নিয়ামাত ভোগ করবে। অপরদিকে কাফিররা মৃত্যুহীনভাবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। তারা দ্বিতীয় সুযোগ চাইলে বলে দেওয়া হবে যে দুনিয়ার জীবনে তারা ঈমান আনার জন্য যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছিলো।
মক্কার মুশরিকরা ইহুদী-নাসারাদের সাথে বিতর্ককালে বলতো কোনো নবী আসলে তারাই বেশি হিদায়াতের অনুসারী হবে। অথচ নবী আসার পর তারাই অহংকার দেখিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আল্লাহ কৃতকর্মের জন্য সাথে সাথে পাকড়াও করলে জমিনে কাউকেই ছাড় দিতেন না। কিন্তু তাঁর শাস্তির নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত আছে।

সূরা ইয়াসীন, আয়াত ১ থেকে ২১

সূরা ইয়াসীনে হিকমতপূর্ণ কুরআনের কসম করে মুহাম্মাদকে (সাঃ) সত্য রাসূল ঘোষণা করা হয়েছে। মুশরিকরা এমন জিদ ধরে সত্য অস্বীকার করছে, যেন তাদের গলায় বেড়ি ও চারদিকে দেওয়াল থাকার কারণে তারা সত্যকে দেখতে পারছে না।
এক জনপদের কথা উল্লেখ করা হয় যেখানে একে একে তিনজন রাসূল পাঠিয়ে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিলো। তারা তো দাওয়াত গ্রহণ করেইনি, উল্টো তাঁদেরকে অশুভ আখ্যায়িত করে হত্যার হুমকি দেয়। রাসূলগণ জানান এসব অশুভতা তাদের শির্ক কুফরেরই ফল। শহরের প্রান্ত থেকে এক নেককার ঈমানদার ব্যক্তি ছুটে আসে। সে রাসূলদের অনুসরণ করতে বলে, যারা কোনো প্রতিদান চান না অথচ সঠিক পথে আছে। কাহিনীর বাকি অংশ আগামী তারাবীহতে।



কার্টেসি : হুজুর হয়ে ফেসবুক পেজ

*




0 Comments 139 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2024